বেলা এগারোটা কুড়ি।
স্টেশানের বাইরে দাঁড়িয়ে ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে চম্বল।
কুড়ি মিনিট পেরিয়ে গেছে। মহিমরঞ্জন কি তাহলে সময়টা ভুল বললেন? চম্বল নিজে এসেছে পৌনে
এগারোটায। তখন থেকে স্টেশানের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। মহিমরঞ্জন এলে অবশ্যই দেখতে পেতেন।
আসবে না নাকি?
একবার ঘুরে দেখা উচিৎ। চম্বল এদিক ওদিক একটু
পায়চারি করে।
সাড়ে এগারোটা।
ওকে কি দাঁড়াতে বলেছিলেন মহিমরঞ্জন? মনে করতে
পারেনা চম্বল ঠিক করে। একবার টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে ঘুরে আসবে ঠিক করে।
কিন্তু সেখানেও কেউ নেই।
একটা ফোন নাম্বার নেওয়া উচিৎ ছিলো লোকটার।
এখন কি করবে? বারোটা অব্দি দেখে ফিরে যাবে?
রাস্তার ভিড়ের মধ্যে একটা লোকের দিকে চোখ পড়ে
চম্বলের। কালো স্যুট, সাদা জামা, লাল টাই, চোখে গভীর কালো চশমা। লোকটা হন্তদন্ত হয়ে
টিকিট কাউন্টারের দিকে এগোচ্ছে।
না...
ওর দিকেই আসছে!
এই নিশ্চয়ই ওকে নিতে এসেছে। চম্বল দু’পা এগিয়ে
যায়।
লোকটি সোজা চম্বলের সামনে এসে থামে। হাত বাড়িয়ে
বলে, “গুড মর্নিং মিস্টার চ্যাটার্জী। আমার অনেকটা লেট হয়ে গেল। ভেরি সরি।”
চম্বলের মুখ হাঁ হয়ে গেছে। গলা শুনে চিনতে
পেরেছে মহিমরঞ্জনকে। কিন্তু পোষাক দেখে কে চিনবে!
মহিমরঞ্জন হাত বাড়িয়েই আছেন। চম্বল করমর্দন
করে। মহিমরঞ্জন বলেন, “আসুন, গাড়িটা ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে।”
গাড়িটা একটা সাদা রঙের অ্যামবাসাডার, বেশ পুরোনো।
চম্বল টুক করে নম্বরটা দেখে নেয়। গাড়ি চলতে শুরু করার পরে সেটা পাঠিয়ে দেয় টিমোর নাম্বারে।
“আপনি নিশ্চয়ই অনেক্ষণ ওয়েট করেছেন?” মহিমরঞ্জন
বলেন। “আই অ্যাপলোজাইজ। ঠিক সময় ঠিক জায়গায় পৌছনোটা বড় কঠিন ব্যাপার।”
“রাস্তায় জ্যাম ছিলো?” চম্বল বলে।
“না, তেমন কিছু না। সমস্যা সেটা না।”
কিন্তু সমস্যা কি, সেটা মহিমবাবু বললেন না।
চুপ করে কি ভাবতে লেগে গেলেন। চম্বলও চুপ করে যায়। এদিকে গাড়িটা বাজারের ভিড় ঠেলে অপেক্ষাকৃত
খালি রাস্তায় এসে পৌঁছেছে। চম্বল দোকানের সাইনবোর্ড থেকে দুএকটা রাস্তার নাম দেখে।
একটা নাম পাঠিয়ে দেয় টিমো কে।
বেশ কিছুক্ষণ পর গাড়িটা একটা পাঁচিল ঘেরা দোতলা
বাড়ির ভেতর ঢুকে গিয়ে দাঁড়ায়। চম্বল গাড়ি থেকে নেমে এদিক ওদিক তাকায়, যদি কোনো ঠিকানা
বা নাম দেখা যায়। কিন্তু সেরকম কিছু পায়না। একজন দারোয়ান রাস্তার দরজাটা বন্ধ করে দেয়।
“এদিকে আসুন,” মহিমরঞ্জন চম্বলকে ডেকে বাড়ির
মধ্যে ঢোকেন। চম্বল ওনার সাথে একটা বড় বৈঠকখানা ঘরে এসে উপস্থিত হয়। সেখানে মুখোমুখি
দুটি সোফায় দু’জন লোক বসে আছেন। একজনের পরণে ঘরোয়া পাঞ্জাবী পাজামা আর অপরজন পরে আছেন
শার্ট প্যান্ট, পায়ে মোজা। বোঝা যায় উনি বাইরে থেকে এসেছেন দেখা করতে। দুজনেই আলোচনায়
ব্যস্ত, সামনে দুটি চায়ের খালি পেয়ালা।
চম্বল ভাবে, দেখে তো ডাকাত ডাকাত লাগছে না।
অবশ্য ডাকাতকে কিরকম দেখতে সেটা ও নিশ্চিত ভাবে জানে না।
মহিমরঞ্জন ঢুকতে পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোক মুখ
তুলে তাকান। বলেন, “এসো, মহিম। পোশাকে যে পুরো উত্তমকুমার। সেভেনটিজ নাকি হে?”
মহিমরঞ্জন একটু লজ্জা মুখ করে হেসে বলেন,
“হ্যাঁ, একটু কাজ ছিলো। এই যে, বৈদ্য’দা, আমাদের নতুন রিক্রুট চম্বল। চম্বল, ইনি ডক্টর
বৈদ্য।”
চম্বল কি বলবে বুঝতে পারে না। শেষে ইতঃস্তত
করে বলে, “গুড মর্নিং, স্যার।”
“গুড মর্নিং চম্বল। তুমি একটু পাশের ঘরে বসো।
আমি তোমাকে ডেকে নেবো।”
চম্বল ঘরটা থেকে বেরিয়ে আসে। মহিমরঞ্জন পাশের
একটা ঘরের দরজা খুলে বলেন, “এখানে বসুন।”
ঘরটা একটা ওয়েটিং রুম, অনেকটা ডাক্তারখানায়
যেরকম থাকে, সেরকম। চম্বল ঢুকে বসে। মহিমরঞ্জন কোথায় চলে যান। একটু পরে দুই মগ কফি
নিয়ে হাজির হন। চম্বলকে একটা দিয়ে নিজে আরেকটা নিয়ে চম্বলের উল্টোদিকে বসেন। কফিতে
চুমুক দিয়ে বলেন, “কি চম্বলবাবু, এখনো চিন্তিত? আমাদের দেখে এখনো ক্রিমিনাল মনে হচ্ছে?”
চম্বল বলে, “ক্রিমিনালদের কি অন্যরকম দেখতে
হয়? আমার আপনার মতই দেখতে হয়। দেখে বোঝা যায়না।”
মহিমরঞ্জন খুশি হন। ঢকঢক করে মাথা নেড়ে বলেন,
“একদম ঠিক কথা। এটাই শুনতে চাইছিলাম।” তারপর চোখ বন্ধ করে ঢুলতে থাকেন। থেকে থেকে কফিতে
চুমুক দেন।
পাশের ঘরের মিটিং চলতে থাকে। চম্বল কথাবার্তা
বুঝতে পারেনা, কিন্তু কথা ইংরাজীতে হচ্ছে সেটা বোঝে। একসময় ওর ও চোখ জরিয়ে আসে।
হঠাৎ পাশের ঘর থেকে হাঁক আসে, “মহিম, কোথায়
গেলে? এসো।”
চম্বল উঠে দাঁড়ায়। বাইরের রাস্তায় একটা গাড়ির
আওয়াজ শোনা যায়। সেই ভদ্রলোক বোধহয় চলে গেলেন।
মহিমরঞ্জন আড়মোড়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। বলেন,
“চলুন তবে।”
ডক্টর বৈদ্য সোফায় হেলান দিয়ে বসে চম্বলকে
বলেন, “মহিম তোমার লাঠি আর তরোয়াল খেলার প্রশংসা করছিলো। ভেরি গুড। আজকাল এসব কজন পারে?
তোমার বাবা তোমায় শিখিয়েছেন শুনলাম। ভেরি নাইস। আমাদের তোমার মত একটু লড়াই জানা সাহসী
ছেলে দরকার। তাইজন্যই তোমাকে বেছেছিলাম ঐ এজেন্সিটার থেকে। ওরা অবশ্য তোমাকে সিনেমার
কথা বলেই পাঠিয়েছিল। কি আর করবে, আমরা ওদেরকেও বলতে পারিনা কাজটা কি। ভেরি কেয়ারফুল
থাকতে হয়।”
“কাজটা কি?” অবশেষে চম্বল জিজ্ঞাসা করে।
“হ্যাঁ, এই যে এক্ষুনি জানতে পারবে। মহিম,
ওই কাগজগুলো দাও না।” মহিমরঞ্জনের থেকে একতারা কাগজ নিয়ে চম্বলের সামনে টেবিলে নামিয়ে
রাখেন ডক্টর বৈদ্য। “এইগুলো সই করে দাও, ব্যাস। তারপরেই বলছি।”
“এসব কি?”
“এই কাগজে সই করে তুমি প্রতিজ্ঞা করছো যে আমি
তোমাকে যা বলবো তা তুমি বাইরের কাউকে জানাবে না।”
“তার মানে কি?” চম্বলের মোটেই ভালো লাগে না
ব্যাপারটা। “কি এমন কাজ করেন আপনারা যে লোকে জানলে সর্বনাশ হয়ে যাবে?”
“কি কাজ করি সেটা জানতে গেলে আগে সইটা করতে
হবে।” মহিমরঞ্জন পাশ থেকে বলেন।
চম্বল সোজা উঠে দাঁড়ায়। “রাখুন আপনার কাজ।
রাখুন আপনার চাকরি। আর রাখুন আপনার কাগজ। আপনারা লোক সুবিধার নন। আমি চললাম।”
“আরে রেগে যাচ্ছ কেন?” ডক্টর বৈদ্য বলেন।
“বোসো, বোসো। আমরা খারাপ লোক নই। আচ্ছা সই পরে করলেও চলবে। জল খাবে?”
চম্বল ভুরু কুঁচকে ডক্টর বৈদ্যর দিকে তাকিয়ে
আছে। কিছু বলছে না।
ডক্টর বৈদ্য বলেন, “আমরা হারিয়ে যাওয়া জিনিস
উদ্ধার করি।”
“কিরকম জিনিস?”
“বিভিন্ন রকম। তবে সেগুলো হারিয়ে গেছে চিরতরে,
আর পাওয়া যাবে না। সেরকম জিনিস।”
“মানে গুপ্তধন?”
“তাও হতে পারে।”
“ধুসস,” চম্বল ধপ করে সোফায় বসে পড়ে। “আপনারা
প্রত্নবিদ, বুঝেছি। পুরোনো জিনিস উদ্ধার করেন। এমন করলেন যেন কিই না কি করছেন। সই-সাবুদ
কত নাটক। কি ক্ষতি হবে লোকে জানতে পারলে?”
“তুমি আমার কথাটা মন দিয়ে শোনোনি,” ডক্টর বৈদ্য
বলেন। “আমরা শুধু সেরকম জিনিস উদ্ধার করি, যা চিরতরে হারিয়ে গেছে, বা নষ্ট হয়ে গেছে।
যা খুঁজলেও পাওয়া যাবে না।”
“সে আবার কি? নষ্ট হওয়া জিনিস আবার উদ্ধার
হয় নাকি”?
“নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে উদ্ধার করতে হয়।”
“কি বলছেন, কোনো মানে হয় না।” চম্বলের মাথাটা
এখনো ঠান্ডা হয়নি।
পাশ থেকে মহিমরঞ্জন ডক্টর বৈদ্যকে বলেন, “উদাহরণ
দিয়ে বোঝান।”
“হ্যাঁ, উদাহরণ দিয়ে বোঝাই,” ডক্টর বৈদ্য মেনে
নেন। তারপর মহিমরঞ্জনকে জিজ্ঞাসা করেন, “কিন্তু কোন উদাহরণটা দিই?”
“যেটা রিসেন্ট, সেটাই দিন না। ওই বাবরের কেসটা।”
ডক্টর বৈদ্য আবার চম্বলের দিকে ফেরেন। “ফর
এক্সাম্পল, চম্বল, বাবরের একটা তলোয়ার একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে বা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।
সেটা উদ্ধার করা প্রয়োজন।”
“বাবর? মানে সম্রাট বাবর?” চম্বল অবাক হয়ে
জিজ্ঞাসা করে।
“হ্যাঁ, আকবরের দাদু।” ডক্টর বৈদ্য বলেন।
“ঠাকুরদা,” মহিমরঞ্জন শুধরে দেন।
“সরি, ঠাকুরদা। যে বাবর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা
করেছিল, বুঝতে পেরেছো তো?” চম্বল মাথা নেড়ে সায় দেয়। ডক্টর বৈদ্য বলতে থাকেন, “এখন
সেই বাবরের একটা মহামূল্যমান তরোয়াল গেছে খোয়া। বাবর সেটাকে অপয়া ভেবে পুঁতে দিয়েছিলেন
আর তারপরেই সেটা চুরি হয়ে যায়। সেই রাত্তিরেই। ভেরি স্যাড।”
“কে চুরি করেছিল?” চম্বল জিজ্ঞাসা করে।
“কয়েকজন লোক মিলে চুরি করেছিলো, কিন্তু তাতে
তারা লাভবান হয়নি। মধ্যিখানে তরোয়ালটা চিরতরে হারিয়ে গেলো। আমরা সেটা উদ্ধার করতে চাই।
আমাদের টিম আছে এই কাজ করার জন্য, তোমার সাথে তাদের আলাপ করিয়ে দেবো। তোমাকে আমরা সেই
টিমের আরেকজন মেম্বার হিসাবে রিক্রুট করেছি। উদ্ধারকার্যে তোমাকে যেতে হবে।”
“কোথায় যেতে হবে? তরোয়ালটা এখন কোথায় আছে?”
ডক্টর বৈদ্য বলেন, “তরোয়ালটা এখন আর কোথাও
নেই। ওটা চুরি হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত থেকেই হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাইজন্য চুরি
যাবার আগেই ওটাকে তুলে নিয়ে আসতে হবে।”
“চুরিটা হয়ে গেছে, না হবে?”
“হয়ে গেছে, সেই বাবরের আমলেই।”
চম্বল তাকিয়ে থাকে ডক্টর বৈদ্যর দিকে। লোকটা
কি যালিয়াত না পাগল?
ডক্টর বৈদ্য যেন ওর মনের কথা বুঝেই হাসেন।
তারপর বলেন, “ঐ যন্ত্রটা অনেকদিন আগেই আবিস্কার হয়ে গেছে, চম্বল। কিন্তু কেউ জানেনা।
লুকিয়ে রাখা আছে পৃথিবীর কয়েকটা মাত্র জায়গায়। কারণ এই যন্ত্র খারাপ লোকের হাতে পড়লে চরম সর্বনাশ।”
“কোন যন্ত্র?” চম্বল রোবটের মত প্রশ্ন করে।
“টাইম মেশিন, অবশ্যই।”
চম্বল এক গেলাস জল ঢক ঢক করে খেয়ে নেয়। রুমাল
দিয়ে মুখ মোছে। “গরম দুধ খাবেন এক কাপ?” মহিমরঞ্জন জিজ্ঞাসা করেন। চম্বল মাথা নাড়ে।
“আপনার কাছে টাইম মেশিন আছে? বললেই আমি বিশ্বাস
করবো?”
“বিশ্বাস করতে হবে না। নিজের চোখে দেখবে। তাতে
করেই যাবে তরোয়াল আনতে।”
“কখন কোথায় যেতে হবে?”
“বিশে এপ্রিল, পনেরশো ছাব্বিশ। পানিপথের প্রথম
যুদ্ধের আগের দিন সন্ধেয় মুঘল শিবিরে।”
“ও আচ্ছা।” চম্বল বহু ভেবেও আর কি বলবে বুঝতে
পারে না। মাথাটা নিরেট ইঁটের মত লাগছে। বারুইপুরের বাগানবাড়িতে টাইম মেশিন?
“এবারে একটু কাগজগুলোয় সই করে দেবে?” ডক্টর
বৈদ্য করুণ আবেদন জানান।
আর আপত্তি করেনা চম্বল। সই করার কাগজগুলো টেনে
নেয়। একটু পড়ে বলে, “পাস্টফাইন্ডার লিমিটেড কি?”
“আমাদের এজেন্সীর নাম,” ডক্টর বৈদ্য বলেন।
“পাস্টে গিয়ে জিনিস্পত্র ফাইন্ড করি তো। তাই নাম পাস্টফাইন্ডার। কেনো মহিম তোমাকে নাম
বলেনি?”
“কিছুই বলেননি উনি,” চম্বল অভিযোগ জানায়।
“নাম বললেই আপনি গুগল করতেন,” মহিমরঞ্জন বলেন।
“তারপর গুগলে কিছু পেতেন না আর আমাদের মিথ্যাবাদী ভাবতেন”।
“তা ঠিক, তা ঠিক,” ডক্টর বৈদ্য বলেন। “গুগল
করে আমাদের পেতে না। আমরা একটু…ইয়ে…গোপন আর কি”।
চম্বল কাগজগুলোয় সই করে দেয়।
“চলো এবার নিচে যাওয়া যাক। বাকিদের সাথে আলাপ
করিয়ে দিই তোমার।” ডক্টর বৈদ্য উঠে পড়েন। চম্বলকে সাথে নিয়ে ঘরটা থেকে প্যাসেজে বেরিয়ে
আসেন। মহিমরঞ্জন ঘরেই থেকে যান। ডক্টর বৈদ্য একটা ঘরের দরজা খোলেন, আলো জ্বালেন। ঘরটা
একটা রান্নাঘর। ডক্টর বৈদ্য ঢুকে যান, চম্বল বাইরে অপেক্ষা করে।
“কি হল? এসো।” ডক্টর বৈদ্য ডাকেন।
রান্নাঘরে ঢুকতে হবে? আচ্ছা, বেশ। চম্বল ঢুকে
দাঁড়ায়। ডক্টর বৈদ্য দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে একটা সুইচ টেপেন। চম্বলের হঠাৎ মনে হয় তার
পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।
পুরো রান্নাঘরটা একটা লিফটের মত নিচে নেমে
যাচ্ছে।
লিফট থামার পরে রান্নাঘরের দরজাটা খুলে দেন
ডক্টর বৈদ্য।
বাইরে একটা করিডর। ঝাঁ চকচকে। যেমন দেখা যায়
কোনো সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে বা খুব বড় কোম্পানীর অফিসে।
“এসো, চম্বল। এইখানে আমাদের অপারেশান সেন্টার।”